আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে সরকারি হল পাচ্ছে না বহু নাট্যগোষ্ঠী। এই খবর একাধিকবার সংবাদ মাধ্যমের প্রকাশিত হয়েছে। এখন অভিযোগ উঠছে মঞ্চদুনিয়ার অন্দরেও নাকি রাজনীতি বেড়েছে। যার জন্য বন্ধুত্ব নষ্ট হচ্ছে। এই বিষয়ে কি বলছেন নাট্যকর্মীরা ?
১৯৮৪ সাল থেকে “পঞ্চম বৈদিক” নাট্য দলের সঙ্গে যুক্ত চৈতালি চক্রবর্তী। অতএব তিনি খুব ভালোভাবেই জানেন মঞ্চের অন্দরের রাজনীতি বা কুটকাচালীর কথা। তাঁকে এই প্রসঙ্গে বলতে বললে তিনি জানান “তখন পত্রপত্রিকা ছিল। সেখানে অন্দরের সব খবর প্রকাশিত হতো না। ফলে পাঠক অনেক কিছুই জানতে পারতেন না। অন্দরের কাজিয়া তাই অন্তরালেই থেকে যেত।” তিনি মূলত দোষ দিয়েছেন আজকের সমাজমাধ্যমকে। তাঁর কথায় সমাজমাধ্যম ঘরের কলহ প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে। সেখানে নীতিপুলিশি করছেন হাজার হাজার মানুষ , ফলে কলহ বাড়ছে। তার ছাপ পড়ছে মঞ্চ দুনিয়ায়। জনপ্রিয় নাট্যকার সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন “আমি এই ভয়েই কোন কথা বলি না। সাতেপাঁচে থাকি না। কারো হয়ে কিছু বলতে যায় না। আসি-যাই কাজ করি ব্যাস। থিয়েটার মহলের অন্দরের রাজনীতিও কম বিষাক্ত নয়। আমি এসবের থেকে শত হস্ত দূরে।” নাট্যকার শংকর আবার জানিয়েছেন ” আমি তো এজন্য নাটকের পর গ্রিনরুমেই যায় না। গেলেই নানা মানুষের আগমন। নানা মুনির নানা মত। কি বলতে কি বলে ফেলব, তাই নিয়ে আর এক অশান্তি।” নাট্যভিনেতা-পরিচালক সুরজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এ ব্যাপারে আদর্শ মেনেছেন কৌশিক সেনকে। তিনি জানিয়েছেন , একমাত্র কৌশিক সেনকে প্রাণ খুলে সকলের প্রশংসা করতে দেখেন, এই আচরণ আগের প্রজন্মের মধ্যে ছিল। তারা প্রকাশ্যে নিন্দা প্রশংসা দূই করতেন, কাউকে ভয় পেতেন না। আর যাদের বলতেন তারাও খুব সহজ ভাবে নিতেন। কিন্তু এখন তা করা যায়না বন্ধুবিচ্ছেদের ভয়ে , কাজ হারানোর ভয়ে।
Tollyworld। Edited By: Priti Karmakar
Jan 03, 2026





