এ যেন এক অনন্য আখ্যান। এক মাতৃত্বের লড়াই। এক সন্তান হারানোর গল্প। এমনই এক মর্মস্পর্শী ঘটনার কথা ভাগ করে নিলেন চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী রানী মুখার্জি। নিজের সাথে নিজের লড়াইটা তাঁর কাছে সহজ ছিল না মোটেও। একদিকে ব্যক্তিগত শোক আর অন্যদিকে পর্দার লড়াই – দুই মিলে এক অনন্য মেলবন্ধন তৈরি করেছিল অভিনেত্রীর জীবনে।

রানী মুখার্জির অত্যন্ত প্রশংসিত ছবি মিসেস চ্যাটার্জি ভার্সেস নরওয়ে। এই ছবিতে অভিনয় করার নৈপথে এক মর্মস্পর্শী প্রেক্ষাপট রয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী সেই কথায় ভাগ করে নিলেন। জানিয়েছেন মিসেস চ্যাটার্জী ভার্সেস নরওয়ে ছবির নৈপথ্য ছিল তার জীবনের এক গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতি। ২০২০ সালে যখন এই ছবির প্রস্তাব তাঁর কাছে আসে, তখন তিনি তাঁর দ্বিতীয় সন্তানকে হারিয়েছিলেন (গর্ভপাত)। মিসেস চ্যাটার্জী ভার্সেস নরওয়ে ছবিটি এক মায়ের লড়াইয়ের গল্প। তাই এরকম এক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই ছবির গল্প গভীর প্রভাব ফেলেছিল অভিনেত্রীর মনে। এই ছবিতে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন অভিনেত্রী। পিঙ্কভিলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, “গল্পটি আমার কাছে এমন এক সময় এসেছিল, যখন আমি আমার দ্বিতীয় সন্তানকে হারিয়েছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার মনের ভেতরে বিশাল শূন্যতা কাজ করছিল। তাই গল্পটি শোনার পর আমি নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। আমি জানতাম এই কাহিনী আমাকে বলতেই হবে।”

ভারতীয়দের মধ্যে বিদেশে স্থায়ী হওয়ার যে তীব্র মোহ রয়েছে, তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা কঠোর বাস্তবকে তুলে ধরতে চেয়ে তিনি বলেন, “আমি ভারতের মানুষকে বলতে চেয়েছিলাম যে আমাদের মধ্যে বিদেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার যে গভীর আকর্ষণ কাজ করে, তার বাস্তবটা সবসময় সুখের হয় না সত্যটা অনেক সময় সম্পূর্ণ আলাদা এবং কঠিন।” সন্তানহারা মায়ের শূন্যতা আর পর্দার দেবীকা চট্টোপাধ্যায়ের সংগ্রাম , এই দুই মিলেই রানীকে এই চরিত্রে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করেছিল। চলচ্চিত্র জীবনে তাঁর প্রায় ৩ দশক কেটে গিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বারবার এমন সব চরিত্র বেছে নিয়েছেন যা সমাজে একটি প্রভাব ফেলতে পারবে। মিসেস চ্যাটার্জী ভার্সেস নরওয়ে ছবিতে অভিনয়ের সিদ্ধান্তও ছিল সেই সচেতনতারই অংশ।
Tollyworld। Edited by: Priti Karmakar
Jan 31, 2026









