ইউটিউবার এবং বিগ বস ১৭ খ্যাত অনুরাগ ডোভাল তার বাবা-মা এবং ভাই এর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন।
ইউটিউবার এবং বিগ বস ১৭ খ্যাত অনুরাগ ডোভাল যিনি সমাজ মাধ্যমে UK07 রাইডার নামে পরিচিত, একটি ভিডিওর মাধ্যমিক জানিয়েছেন যে তিনি কয়েক মাসের জন্য মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর আগেও তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি বার্তা শেয়ার করেছিলেন যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং দায়ীদের নাম তিনি প্রকাশ করবেন। সম্প্রতি প্রায় দু’ঘণ্টার একটি ভিডিওর মাধ্যমে তিনি দাবি করেছেন তার মানসিক যন্ত্রণার জন্য তাঁর বাবা-মা এবং ভাই দায়ী। এই ভিডিওটি কে নিজের শেষ ব্লগ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। তিনি বলেছেন, “গত কয়েক মাসে আমার জীবন নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। আমি কখনো ভাবিনি যে জীবন আমাকে এভাবে ছুড়ে ফেলবে এবং ভেঙে ফেলবে।” ভিডিওতে ইউটিউবারের ছোটবেলার ব্রেন টিউমার ধরা পড়ার কথা স্মরণ করে এবং তিনি যে পড়াশোনার জন্য পরিবারের কাছ থেকে চাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন এবং তার স্বপ্ন পূরণের চেষ্টার জন্য নিজে টিউশন করিয়ে সব স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন সেসবের কথাও ভিডিওতে বলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমি আমার নিজের আগে সবার স্বপ্ন পূরণ করেছি। কিন্তু আমি কখনো ভাবি নি যে আমি এমন একটি ভিডিও বানাবো। অনেকেই বিশ্বাস করবেন না। আমি কখনো কল্পনাও করিনি যে আমার শেষ ব্লগটি এমন হবে। আমার মনে হয় আমার জীবনে কারো কাছ থেকে কোন আনুগত্য ছিল না।” স্ত্রী রিতিকাকে নিয়ে তিনি বলেন, ” আমরা দুই বছর ধরে ডেটিং করছিলাম। আমরা একসাথে সময় কাটিয়েছি, ভ্রমণ করেছি, প্রেমে পড়েছি। আমার মনে হয়েছিল যে সে আমার জন্য খুব ভালো এবং কখনো আমার হাত ছাড়বে না। যখন আমি আমার পরিবারকে বললাম যে আমি তাকে বিয়ে করতে চাই , তারা প্রথমে রাজি ছিল না। পরে তারা রাজি হয়ে যায়।” অনুরাগের অভিযোগ, “বিয়ের ৫-৬ দিন আগে আমি জানিনা কি হয়েছিল। তারা বলেছিল যে তারা খুশি নয়। এবং যোগ দেবে না , কার্ড ইতিমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে এবং সবকিছু সম্পন্ন হয়ে গেছে।” এরপর তিনি জানান যে, তার বাবা-মাকে পাশে না রেখেই তাকে পুরো অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি পুরো বিয়ে একাই করেছি। আমি জানিনা কেন আমার বাবা মা এটা করেছিলেন।” তিনি জানান, ২৪ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল বিয়ের মাত্র কয়েকদিন আগে তাকে তার পরিবারের কাছ থেকে তীব্র অপমান এবং চাপের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। অনুরাগ জানিয়েছেন, “আমাকে এতটাই হয়রানি করা হয়েছিল যে আমি হাতজোড় করে তাদের পা ছুঁয়েছিলাম। আত্মীয়দের সামনে আমাকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয়েছিল। তারা বলেছিল যে আমি ক্ষমা চাইলেই তারা বিয়েতে আসবে। আমার কাছে সবকিছুর রেকর্ডিং আছে এবং আমি সেগুলো শেয়ার করব।” এছাড়াও তিনি জানান “আমার বাবা-মা আমাকে ঘরে ঢুকতে দেননি। তাই আমি ঋতিকাকে একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যাই এবং তাকে বলি সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। এরপর থেকে আমি আর কখনো বাড়ি ফিরে যায়নি।”

অনুরাগ জানিয়েছেন সবকিছু শেষ করার কথা ভাবতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। তার কথায়, “আমি একদিন আগেও আমার জীবন শেষ করার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু সাহস সঞ্চয় করতে পারিনি।” মানসিক আঘাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন ” “আমার ভাগ্য এমন যে আমি আমার বাবা-মা, ভাই এমনকি আমার স্ত্রীর কাছ থেকেও ভালোবাসা পাইনি।” তিনি আরো যোগ করেন “আমি পাঁচ দিন ধরে কিছু খাইনি বা ঘুমোয়নি। আমার মনে হচ্ছে আমি প্রায় পাগল হয়ে গেছি।” সবশেষে অনুরাগ উল্লেখ করেন , “আমার মৃত্যুর জন্য মা-বাবা কালাম (ভাই) এবং শ্রেয়া দায়ী। আমার আর কিছুই করার নেই। আমি প্রচন্ড হতাশায় ভুগছি এবং এই অনুভূতি কিভাবে দূর করব তা আমি জানিনা।” তিনি আরও বলেন, “আমি অনেক কেঁদেছি। আমার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এটাই আমার শেষ ভিডিও। এই ভিডিওর পর আমি হয়তো অদৃশ্য হয়ে যাব। আমি শুধু ঘুমাতে চাই। পাঁচ দিন ধরে কিছু খাইনি। আমার মন কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছে।” এছাড়াও তিনি একটি বার্তা প্রকাশ করেছিলেন যেখানে লেখা ছিল, “আমি চলে যাওয়ার পর শ্রেয়া, মা এবং বাবা হয়তো অনেক কিছু বলতে পারেন অথবা মিথ্যা বলতে পারেন। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম না। ঋতিকা, অনেকেই তোমাকে প্রভাবিত করেছে এবং তোমাকে মিথ্যা বলেছে। কিন্তু আমি সব সময় তোমাকে ভালোবাসি এবং তোমার জন্য সবকিছু করেছি। যাই হোক তুমি অন্যদের বিশ্বাস করেছিলে, তাদের কথা বিশ্বাস করেছিলেন, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে এবং আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে। আমি আমার সন্তানকে ভালোবাসি এবং এটাই ছিল আমার একমাত্র আশা। তুমি যদি আমাকে বিশ্বাস করতে , তুমি যদি অন্যদের বিশ্বাস না করতে, তুমি যদি আমার পাশে থাকতে। তোমাকে অনেক লোক দ্বারা চালিত করা হয়েছিল, যারা সত্যিই কারো প্রতি অনুগত ছিল না। আমি চলে যাওয়ার পর অন্তত আমার এবং আমার সন্তানের পক্ষে দাঁড়াও এবং সত্য কথা বলো। আমি কখনোই তোমাকে ভুল প্রমাণ করতে চাইনি, কিন্তু আমি চলে যাওয়ার পর দয়া করে উঠে দাঁড়াও এবং আমাদের সম্মানের জন্য লড়াই করো।”

Tollyworld। Edited by: Priti Karmakar
Mar 06 , 2026









